২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপে আরেকটি শক্তিশালী পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হওয়ার পথে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মরিসিও পোচেত্তিনোর দল। টানা দুই ম্যাচে ছয় গোল করে যুক্তরাষ্ট্র শুধু জয়ই পায়নি, শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেও নিজেদের অবস্থান জোরালো করেছে।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ ইনজুরির কারণে মাঠে না থাকলেও আক্রমণে তার অভাব তেমন অনুভূত হয়নি। ফোলারিন বালোগুন ও রিকার্দো পেপির নেতৃত্বে স্বাগতিকরা ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত রাখে।

শুরুর ধাক্কাতেই পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া
ম্যাচের শুরুতেই বাম দিক দিয়ে দুর্দান্ত দৌড় ও ক্রস করেন ফোলারিন বালোগুন। সেই বল সামাল দিতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্গেস নিজের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন। আত্মঘাতী এই গোলেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
গোলের পরও আক্রমণের গতি কমায়নি স্বাগতিকরা। বালোগুনের গতি ও চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে থাকে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগ। প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিং এতটাই কার্যকর ছিল যে অস্ট্রেলিয়া মাঝমাঠে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়নি।
অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের গোল, ভিডিও রিভিউয়ে বদলে যায় সিদ্ধান্ত
প্রথমার্ধেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তরুণ অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। শুরুতে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, সার্জিনিও ডেস্টের শট ডিফ্লেক্ট হয়ে ফ্রিম্যানের কাছে পৌঁছানোর সময় তিনি অনসাইড ছিলেন।
ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। ফ্রিম্যানের এই গোলটি তার দ্রুত উত্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দ্বিতীয়ার্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা অস্ট্রেলিয়ার
বিরতির পর অস্ট্রেলিয়া কয়েকটি পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। নেস্টরি ইরানকুন্ডাসহ কয়েকজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়কে নামানো হয়। কিছু সুযোগও তৈরি করে তারা, তবে ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্র।
অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পপোভিচ ম্যাচ শেষে স্বীকার করেন, তার দল শুরুতে খুব ধীর ও ভারী মনে হয়েছে। তার ভাষায়, প্রতিটি দ্বৈরথ ও দ্বিতীয় বলের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে ছিল, যা ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

পোচেত্তিনোর প্রশংসা, পুলিসিচকে নিয়ে আশাবাদ
ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো সমর্থকদের প্রশংসা করে বলেন, দলের প্রতি দর্শকদের সমর্থন অসাধারণ। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইনজুরিতে থাকা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ পরবর্তী ম্যাচের আগে সুস্থ হয়ে ফিরতে পারবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ও গতিময় এই যুক্তরাষ্ট্র দল এখন শুধু গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার জন্য নয়, আরও বড় লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে। প্রথম দুই ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাপুটে জয়, অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে নকআউটের দুয়ারে স্বাগতিকরা।
#বিশ্বকাপ২০২৬ #যুক্তরাষ্ট্র #অস্ট্রেলিয়া #ফুটবল #বিশ্বকাপ #মরিসিওপোচেত্তিনো #ফোলারিনবালোগুন #ক্রীড়াসংবাদ #সারাক্ষণ #ফিফাবিশ্বকাপ২০২৬
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















