০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
নিঃশব্দ যন্ত্রণার ভেতর ফ্যাশনের ঝলক, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নতুন ছবি ‘ক্যুচার’ কেন আলোচনায় অর্থোপেডিক সার্জনদের ৫ অভ্যাস: বয়স বাড়লেও কীভাবে থাকবেন শক্তিশালী ও সচল নতুন বিতর্কে রাবি রাকসু নেতা: জাহানারা ইমামকে কটাক্ষ, পদ স্থগিতের দাবি ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান, কম্পন অনুভূত দিল্লি-কাশ্মীর-পাকিস্তানেও নতুন রহস্যময় পোস্টে মাহফুজ আলমের সতর্কবার্তা: ‘আমি প্রথম বলির পাঁঠা হতে পারি, কিন্তু শেষ নই’ নানা অঞ্চলে রেকর্ড বৃষ্টি, ভূমিকম্পের পর জাপানে দুই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাড়ল ভূমিধসের শঙ্কা নদীতে সাত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার গুজব, তথ্য ভিত্তিহীন বলছে পুলিশ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড: ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা গণনা, ছাড়িয়ে গেল আগের সব হিসাব ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আবারও তীব্র, ড্রোন হামলার অভিযোগে উদ্বেগে উপসাগরীয় অঞ্চল নড়াইলে ঐচ্ছিক অনুদান বিতর্ক: তালিকায় দুইবার এমপি বাচ্চুর মেয়ের নাম, ব্যাখ্যায় পিএসকে দায়ী করলেন সংসদ সদস্য

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পেট্রোবাংলার

  • Sarakhon Report
  • ০৪:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫
  • 140

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ 

  • এনবিআরের কাছে প্রায় ১৭,৭১১–১৮,০০০ কোটি টাকার বকেয়া জমা হয়েছে
  • পেট্রোবাংলা গ্যাস আমদানির সময় এবং বিক্রির সময় উভয় পর্যায়ে ১৫% ভ্যাট ও ২% অগ্রিম কর প্রদান করছে
  • পেট্রোবাংলা আমদানির পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে, যা ৭,৭৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারে
  • এই বিপুল বকেয়ার কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে

পেট্রোবাংলা গ্যাস আমদানিতে দ্বিগুণ কর (ভ্যাট ও অন্যান্য শুল্ক) বহন করছে, যার ফলে তার আর্থিক চাপ বাড়ছে। এই ব্যবস্থার কারণে এনবিআরের কাছে প্রায় ১৭,৭১১–১৮,০০০ কোটি টাকার বকেয়া জমা হয়েছে। খরচ কমানোর জন্য পেট্রোবাংলা গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যা আনুমানিক ৩০০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আনতে পারে।

দ্বিগুণ ভ্যাট ও কর ব্যবস্থা

  • আমদানির সময় কর:
    পেট্রোবাংলাকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সময় ১৫% ভ্যাট ও ২% অগ্রিম কর দিতে হয়।
  • বিক্রির সময় কর:
    গ্রাহকের কাছে গ্যাস বিক্রির সময় একই ১৫% ভ্যাট ও ২% উৎসে কর চার্জ করা হয়।
    পাশাপাশি, এলএনজি মার্জিনের বিল পরিশোধের সময় ৫% উৎসে কর কাটা হয়।
  • অসঙ্গতির কারণ:
    সাধারণ পণ্যে আমদানির সাথে বিক্রয় মূল্য বৃদ্ধি পেলে কর নেওয়া যুক্তিযুক্ত হলেও, গ্যাসের ক্ষেত্রে আমদানির দাম বেশি ও বিক্রয় মূল্য কম হওয়ায় এই দ্বিগুণ কর প্রক্রিয়া অর্থনৈতিকভাবে বেমানান মনে হয়।

আর্থিক চাপ ও বকেয়া

  • অর্থনৈতিক সঙ্কট:
    পেট্রোবাংলা গ্যাস সরবরাহের বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পারছে না।
  • বকেয়া পরিমাণ:
    আমদানির পর্যায়ে ভ্যাট ও কর প্রত্যাহারের ফলে এনবিআরের কাছে প্রায় ১৭,৭১১–১৮,০০০ কোটি টাকার বকেয়া জমা হয়েছে।
  • ভর্তুকির নির্ভরতা:
    বর্তমান আর্থিক ঘাটতি পূরণে পেট্রোবাংলা নিয়মিত সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নিচ্ছে, যা গত কয়েক বছরে ৬,০০০–৬,৩৩২ কোটি টাকার মধ্যে ছিল এবং আগামী অর্থবছরে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

সরকারি ভর্তুকি ও প্রস্তাবিত পদক্ষেপ

  • ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব:
    আমদানির পর্যায়ে ১৭% ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার করলে ৭,৭৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব।
    এ ক্ষেত্রে এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে সরকারের নীতিগত অনুমোদন প্রয়োজন।

ব্যাপক প্রভাব ও বিশেষজ্ঞ মতামত

  • আন্তর্জাতিক প্রতিচ্ছবি:
    বিপুল বকেয়া থাকায় এলএনজি আমদানিতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারের ও পেট্রোবাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

  • সরকারি আলোচনা:
    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টার নির্দেশে, শীঘ্রই এনবিআরের সঙ্গে এলএনজির ভ্যাট নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপসংহার
বর্তমান দ্বিগুণ কর ব্যবস্থার কারণে পেট্রোবাংলা মারাত্মক আর্থিক চাপের মুখোমুখি। ভ্যাট ও কর প্রত্যাহারের মাধ্যমে প্রয়োজনে ৭,৭৭৫ কোটি টাকার সাশ্রয় সম্ভব হওয়ায়, এই নীতি পরিবর্তন করলে ভর্তুকির উপর নির্ভরশীলতা কমবে। এ পরিস্থিতি শুধুমাত্র এলএনজি আমদানিতে নয়, অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিঃশব্দ যন্ত্রণার ভেতর ফ্যাশনের ঝলক, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নতুন ছবি ‘ক্যুচার’ কেন আলোচনায়

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পেট্রোবাংলার

০৪:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ 

  • এনবিআরের কাছে প্রায় ১৭,৭১১–১৮,০০০ কোটি টাকার বকেয়া জমা হয়েছে
  • পেট্রোবাংলা গ্যাস আমদানির সময় এবং বিক্রির সময় উভয় পর্যায়ে ১৫% ভ্যাট ও ২% অগ্রিম কর প্রদান করছে
  • পেট্রোবাংলা আমদানির পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে, যা ৭,৭৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারে
  • এই বিপুল বকেয়ার কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে

পেট্রোবাংলা গ্যাস আমদানিতে দ্বিগুণ কর (ভ্যাট ও অন্যান্য শুল্ক) বহন করছে, যার ফলে তার আর্থিক চাপ বাড়ছে। এই ব্যবস্থার কারণে এনবিআরের কাছে প্রায় ১৭,৭১১–১৮,০০০ কোটি টাকার বকেয়া জমা হয়েছে। খরচ কমানোর জন্য পেট্রোবাংলা গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যা আনুমানিক ৩০০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আনতে পারে।

দ্বিগুণ ভ্যাট ও কর ব্যবস্থা

  • আমদানির সময় কর:
    পেট্রোবাংলাকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সময় ১৫% ভ্যাট ও ২% অগ্রিম কর দিতে হয়।
  • বিক্রির সময় কর:
    গ্রাহকের কাছে গ্যাস বিক্রির সময় একই ১৫% ভ্যাট ও ২% উৎসে কর চার্জ করা হয়।
    পাশাপাশি, এলএনজি মার্জিনের বিল পরিশোধের সময় ৫% উৎসে কর কাটা হয়।
  • অসঙ্গতির কারণ:
    সাধারণ পণ্যে আমদানির সাথে বিক্রয় মূল্য বৃদ্ধি পেলে কর নেওয়া যুক্তিযুক্ত হলেও, গ্যাসের ক্ষেত্রে আমদানির দাম বেশি ও বিক্রয় মূল্য কম হওয়ায় এই দ্বিগুণ কর প্রক্রিয়া অর্থনৈতিকভাবে বেমানান মনে হয়।

আর্থিক চাপ ও বকেয়া

  • অর্থনৈতিক সঙ্কট:
    পেট্রোবাংলা গ্যাস সরবরাহের বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পারছে না।
  • বকেয়া পরিমাণ:
    আমদানির পর্যায়ে ভ্যাট ও কর প্রত্যাহারের ফলে এনবিআরের কাছে প্রায় ১৭,৭১১–১৮,০০০ কোটি টাকার বকেয়া জমা হয়েছে।
  • ভর্তুকির নির্ভরতা:
    বর্তমান আর্থিক ঘাটতি পূরণে পেট্রোবাংলা নিয়মিত সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নিচ্ছে, যা গত কয়েক বছরে ৬,০০০–৬,৩৩২ কোটি টাকার মধ্যে ছিল এবং আগামী অর্থবছরে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

সরকারি ভর্তুকি ও প্রস্তাবিত পদক্ষেপ

  • ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব:
    আমদানির পর্যায়ে ১৭% ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার করলে ৭,৭৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব।
    এ ক্ষেত্রে এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে সরকারের নীতিগত অনুমোদন প্রয়োজন।

ব্যাপক প্রভাব ও বিশেষজ্ঞ মতামত

  • আন্তর্জাতিক প্রতিচ্ছবি:
    বিপুল বকেয়া থাকায় এলএনজি আমদানিতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারের ও পেট্রোবাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

  • সরকারি আলোচনা:
    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টার নির্দেশে, শীঘ্রই এনবিআরের সঙ্গে এলএনজির ভ্যাট নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপসংহার
বর্তমান দ্বিগুণ কর ব্যবস্থার কারণে পেট্রোবাংলা মারাত্মক আর্থিক চাপের মুখোমুখি। ভ্যাট ও কর প্রত্যাহারের মাধ্যমে প্রয়োজনে ৭,৭৭৫ কোটি টাকার সাশ্রয় সম্ভব হওয়ায়, এই নীতি পরিবর্তন করলে ভর্তুকির উপর নির্ভরশীলতা কমবে। এ পরিস্থিতি শুধুমাত্র এলএনজি আমদানিতে নয়, অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে মনে করা হচ্ছে।