০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
উচ্চ শব্দের সঙ্গীতে অদৃশ্য শ্রবণক্ষতি, বুঝে ওঠার আগেই বাড়ছে ঝুঁকি টেকসই ভবিষ্যতের পথে বাঁশের নবজাগরণ, শিল্প থেকে খাদ্যে বাড়ছে সম্ভাবনা জানুয়ারিতে টানা পঞ্চম মাসে কমল বিশ্ব খাদ্য দাম, দুগ্ধ ও চিনি দামে বড় পতন স্মৃতি, শহর আর আত্মঅন্বেষণের অনন্য যাত্রা: অনন্যা বাজপেয়ীর বইয়ে বিশ্ব নগরের অন্তরঙ্গ মানচিত্র সূর্যালোক, পানি ও কার্বন ডাই–অক্সাইড থেকে পেট্রোলের উপাদান তৈরির নতুন পথ দেখালেন চীনা বিজ্ঞানীরা কঠোর প্রাণীকল্যাণ আইন দাবি, হংকংয়ে পুকুরে মিলল আক্রমণাত্মক কচ্ছপ দুবাইয়ে ৩৮ বিলিয়ন দিরহামের নতুন আবাসন প্রকল্পে আলদার–দুবাই হোল্ডিং জোটের বড় সম্প্রসারণ বিশ্বমঞ্চে মুরাকামি—আন্তর্জাতিক দর্শককে মাথায় রেখে নতুন নাট্যরূপ এতিম ও আশ্রয়হীন তরুণদের ভোটাধিকার সংকটে ফেলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের নতুন নিয়ম পাখির ফ্লু আতঙ্কে অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ুর সংক্রমণ ঘিরে বাড়ছে সতর্কতা

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ একতরফা ও বিকৃত ইতিহাস: গণফোরামের অভিযোগ

একতরফা ও পক্ষপাতদুষ্ট ঘোষণাপত্র: গণফোরামের অভিযোগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে গত ৫ আগস্ট মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন, সেটিকে একতরফা, পক্ষপাতদুষ্ট এবং ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে গণফোরাম। দলটির মতে, এই ঘোষণায় মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধানের প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কড়া প্রতিক্রিয়া

৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতি এবং সংগঠনের কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে ঘোষণাপত্রে যেভাবে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণার সামিল।

ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামোর অভাব

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থার দাবিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হলেও ঘোষণাপত্রে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামোর কোনও রূপরেখা উপস্থাপিত হয়নি। বরং দলগুলোর মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও উসকে দেওয়া হয়েছে।”

সংবিধান প্রণয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিরুদ্ধে অবস্থান

গণফোরাম দাবি করে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং ১০ এপ্রিলের প্রোক্লেমেশন অব ইন্ডিপেনডেন্সের ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে সংবিধান রচিত হয়। দীর্ঘ ৫৩ বছরে এই প্রক্রিয়া নিয়ে কখনো প্রশ্ন তোলা হয়নি। এখন প্রশ্ন তোলা মানে মুক্তিযুদ্ধকেই বিতর্কিত করা।

তাদের মতে, “শুধুমাত্র যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, তারাই সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণাপত্রে এসব বিষয় উত্থাপন করে সেই একই ধারার অনুসারী হয়েছে।”

সংবিধানকে দোষারোপ নয়রাজনীতির দায় নিতে হবে

দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, “যারা অতীতে ক্ষমতায় ছিল, তারা সংবিধানকে যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। দেশে জবাবদিহিতা ছিল না, আইনের শাসন ছিল না, অনেক জায়গায় অবিচার করা হয়েছে। এসব ভুলের দায় সংবিধানের নয়, বরং রাজনৈতিক নেতৃত্বের।”

বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিভাজনের প্রসঙ্গ

সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান জানান, ঘোষণাপত্রের খসড়া মাত্র কয়েকটি দলকে দেওয়া হয়েছে, এবং ঘোষণার দিন কেবল সাধারণ সম্পাদকের নামে একটি কার্ড পাঠানো হয়েছিল, যা বৈষম্যমূলক আচরণেরই প্রমাণ। এমনকি ঘোষণাপত্রে সরকার একটি ‘লুকোচুরি’র কৌশল নিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী ঘোষণাপত্র

তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়ে এই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন থাকলেও তার প্রণয়ন পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধকেই কলুষিত করার চেষ্টা হয়েছে।”

অশুভ শক্তির’ সক্রিয়তা ও সংবিধান বিতর্ক

এড. একেএম জগলুল হায়দার আফ্রিক বলেন, “যারা একসময় বাংলাদেশ গঠনে বাধা দিয়েছিল, তারাই এখন সংবিধানকে বিতর্কিত করছে। সরকার তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছে। এই অভ্যুত্থান হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য, তা প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নয়।”

উপস্থিত নেতারা ও তাদের বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি পরিষদ সদস্য এড. একেএম জগলুল হায়দার আফ্রিক, কোষাধ্যক্ষ শাহ নুরুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লতিফুল বারী হামিম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক এড. গোলাম মোস্তফা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ মধু, তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক টি এইচ এম জাহাঙ্গীর, গবেষণা ও পরিকল্পনা সম্পাদক এড. সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক ফারুক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা হাসান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মজিবুর রহমান শিবলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

এই বিবৃতিতে স্পষ্ট হয়েছে যে, গণফোরাম ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’কে পক্ষপাতদুষ্ট, বিভ্রান্তিকর এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী হিসেবে দেখছে। তারা দাবি করেছে, এই ধরনের উদ্যোগ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এতে রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

উচ্চ শব্দের সঙ্গীতে অদৃশ্য শ্রবণক্ষতি, বুঝে ওঠার আগেই বাড়ছে ঝুঁকি

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ একতরফা ও বিকৃত ইতিহাস: গণফোরামের অভিযোগ

০৫:৪০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

একতরফা ও পক্ষপাতদুষ্ট ঘোষণাপত্র: গণফোরামের অভিযোগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে গত ৫ আগস্ট মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন, সেটিকে একতরফা, পক্ষপাতদুষ্ট এবং ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে গণফোরাম। দলটির মতে, এই ঘোষণায় মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধানের প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কড়া প্রতিক্রিয়া

৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতি এবং সংগঠনের কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে ঘোষণাপত্রে যেভাবে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণার সামিল।

ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামোর অভাব

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থার দাবিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হলেও ঘোষণাপত্রে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামোর কোনও রূপরেখা উপস্থাপিত হয়নি। বরং দলগুলোর মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও উসকে দেওয়া হয়েছে।”

সংবিধান প্রণয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিরুদ্ধে অবস্থান

গণফোরাম দাবি করে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং ১০ এপ্রিলের প্রোক্লেমেশন অব ইন্ডিপেনডেন্সের ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে সংবিধান রচিত হয়। দীর্ঘ ৫৩ বছরে এই প্রক্রিয়া নিয়ে কখনো প্রশ্ন তোলা হয়নি। এখন প্রশ্ন তোলা মানে মুক্তিযুদ্ধকেই বিতর্কিত করা।

তাদের মতে, “শুধুমাত্র যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, তারাই সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণাপত্রে এসব বিষয় উত্থাপন করে সেই একই ধারার অনুসারী হয়েছে।”

সংবিধানকে দোষারোপ নয়রাজনীতির দায় নিতে হবে

দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, “যারা অতীতে ক্ষমতায় ছিল, তারা সংবিধানকে যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। দেশে জবাবদিহিতা ছিল না, আইনের শাসন ছিল না, অনেক জায়গায় অবিচার করা হয়েছে। এসব ভুলের দায় সংবিধানের নয়, বরং রাজনৈতিক নেতৃত্বের।”

বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিভাজনের প্রসঙ্গ

সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান জানান, ঘোষণাপত্রের খসড়া মাত্র কয়েকটি দলকে দেওয়া হয়েছে, এবং ঘোষণার দিন কেবল সাধারণ সম্পাদকের নামে একটি কার্ড পাঠানো হয়েছিল, যা বৈষম্যমূলক আচরণেরই প্রমাণ। এমনকি ঘোষণাপত্রে সরকার একটি ‘লুকোচুরি’র কৌশল নিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী ঘোষণাপত্র

তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়ে এই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন থাকলেও তার প্রণয়ন পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধকেই কলুষিত করার চেষ্টা হয়েছে।”

অশুভ শক্তির’ সক্রিয়তা ও সংবিধান বিতর্ক

এড. একেএম জগলুল হায়দার আফ্রিক বলেন, “যারা একসময় বাংলাদেশ গঠনে বাধা দিয়েছিল, তারাই এখন সংবিধানকে বিতর্কিত করছে। সরকার তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছে। এই অভ্যুত্থান হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য, তা প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নয়।”

উপস্থিত নেতারা ও তাদের বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি পরিষদ সদস্য এড. একেএম জগলুল হায়দার আফ্রিক, কোষাধ্যক্ষ শাহ নুরুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লতিফুল বারী হামিম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক এড. গোলাম মোস্তফা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ মধু, তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক টি এইচ এম জাহাঙ্গীর, গবেষণা ও পরিকল্পনা সম্পাদক এড. সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক ফারুক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা হাসান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মজিবুর রহমান শিবলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

এই বিবৃতিতে স্পষ্ট হয়েছে যে, গণফোরাম ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’কে পক্ষপাতদুষ্ট, বিভ্রান্তিকর এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী হিসেবে দেখছে। তারা দাবি করেছে, এই ধরনের উদ্যোগ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এতে রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র হবে।